মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

উপজেলার ঐতিহ্য (Glory of the Upazila)

জেনারেল এম এ জি ওসমানীর স্মৃতি বিজড়িত বালাগঞ্জ উপজেলা কুশিয়ারা নদীর তীরে অবস্থিত। বালাগঞ্জ উপজেলাটি ১৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত সিলেট জেলার অন্যতম একটি  উপজেলা। ঐতিহ্যগতভাবে বালাগঞ্জ উপজেলা সদর একটি নৌ-বাণিজ্য কেন্দ্র হিসাবে সিলেট,মৌলভীবাজার,হবিগঞ্জ এবং সুনামগঞ্জের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল সরবরাহের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ছিল। একসময় ব্যাপকভাবে উৎপাদিত 'শীতলপাটী' এ অঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যান্য এলাকায়ও সরবরাহ করা হতো। বর্তমানেও এ উপজেলার কোন কোন এলাকায় কিছু কিছু শীতলপাটী উৎপাদিত হচ্ছে। অত্যন্ত আরামদায়ক ও বৈচিত্রময় শীতলপাটী আজও দেশের সর্বত্র সমভাবে সমাদৃত।

 

Balaganj Upazila, commemorating Gen. M A G Osmani, stands on the basin of the river Kushiara.It is an important one of 12 Upazilas in Sylhet district that comprises of 14 Unions. It was traditionally a marine business center. Balaganj headquarter was a marine  station that linked the supply and busyness among Sylhet, Moulvibazar, Habiganj and Sunamganj. 'Shital Pati'(mat made of canes), a traditional handicraft, once produced in plenty, was transported to other areas of the country and abroad fulfilling the demands in local markets.

 

ইতিহাস ও ঐতিহ্য(History and Legends):

ঐতিহাসিক স্থান ও অন্যান্যঃ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে আমাদের মুক্তিবাহিনীর নেতৃত্ব দানকারী বঙ্গবীর জেনারেল মোঃ আতাউল গণি ওসমানী’রজন্মভূমি হিসেবে বালাগঞ্জ একটি ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ স্থান। বালাগঞ্জের দয়ামীর ইউনিয়নের দয়ামীর বাজারের পাশেই তাঁর পৈত্রিক বাড়ি অবস্থিত। তাঁর পিতা খান বাহাদুর মফিজুর রহমান একজন উচ্চপদস্থ সরকারী কর্মকর্তা ছিলেন। বঙ্গবীর ওসমানী’র অধিনায়কত্বে সামরিক-বেসামরিক যোদ্ধাদের সমন্বয়ে মুক্তিবাহিনী পরিচালিত হয়। তিনি মুক্তিযুদ্ধ এবং তৎপরবর্তীতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অসামান্য অবদান রাখেন। তিনি তখনকার ব্রিটিশ-ভারতীয় সেনাবাহিনীর অধীনে কেডেট নিযুক্ত হয়ে পরবর্তীতে ১৯৫৭ সালে কর্নেল হন। পাকিস্তানি দখলদার সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ময়দানে যুদ্ধ পরিচালনায় অনবদ্য কৃতিত্বের জন্য তিনি কিংবদন্তীতূল্য হয়ে আছেন। ১৯৭০ এবং ১৯৭৩ সালে তিনি যথাক্রমে এম,এন,এ, এবংএম,পি, নির্বাচিত হন। বাংলাদেশে কয়েকটি মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৩ সালে তিনি লন্ডনে মারা যান। বালাগঞ্জের সন্তান হিসেবে ওসমানী’র জন্য বালাগঞ্জ তথা সমগ্র সিলেটবাসী গর্ব বোধ করে।

Historical places and others: Balaganj takes pleasure as she gave birth to a historically important personality Bangabir General Mohammad Ataul Gani Osmani (Gen. M A G Osmani) who was the Commander of Liberation Forces(Mukti bahini) during our Liberation War against Pakistan Occupation Army in 1971. His petarnal house is in Balaganj Upazila at Doyamir Union  and is near to Doyamir bazaar. His father Mr. Khan Bahadur Mofizur Rohman was a government high official. Mr. Osmani contributed a lot to our liberation and thereafter to our democracy to come into reality. He was a cadet under the-then British-Indian army and was ranked as a Colonel in 1957. His leadership in the war of liberation in 1971 in directing the Muktibahini to fight the occupation army turns him to be a legend. He was elected an M N A and M P in 1970 and 1973 respectively. Mr. Osmani was appointed as the Minister for a few ministries of the government of peoples republic of Bangladesh after the liberation. He passed away on 16 Feb,1983 in London. The citizens of this upazila feel proud of such a great legend being the son of this soil.

শীতলপাটীঃ Shital Pati(Mat made of Canes):

বালাগঞ্জ উপজেলার ‘শীতলপাটী’ উৎপাদন ও বাজারজাত করণের গৌরবময় ঐতিহ্য রয়েছে। দেশে ও দেশের বাইরে এ শীতলপাটী সমভাবে সমাদৃত।বালাগঞ্জ উপজেলার গৌরীপুরের শিল্পীদের তৈরী একটি শীতলপাটী ব্রিটেনের রাণী ভিক্টোরিয়া’র প্রাসাদে স্থান পেয়েছিল।১৯০৬ সালে কলকাতায় আয়োজিত শিল্প প্রদর্শনীতে শীতলপাটীর জন্য জদুরাম দাস স্বর্ণপদক লাভ করেন।১৯৮২ সালে শীতলপাটী তৈরীর জন্য জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ কুটীর শিল্পী হিসেবে পুরষ্কার জিতে নেন বাবু পবনজয় দাস। ইতালি’র রোমে ১৯৯১ সালে অনুষ্ঠিত কুটীরশিল্প প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের মনীন্দ্র নাথের উপস্থাপিত শীতলপাটী পুরষ্কার লাভ করে। বিভিন্ন ডিজাইন এবং বুননের বৈচিত্রের জন্য শীতলপাটী সর্বত্র সমাদৃত এবং একসময় এ কে বিশ্ববিখ্যাত মসলিন কাপড়ের সাথে তুলনা করা হত। বুননের ধরণ ও বেতের আকৃতির ভিত্তিতে শীতলপাটী বিভিন্ন স্থানীয় নামে পরিচিত, যেমন- সিকি, আধুলি, টাকা, নয়নতারা, আসমানতারা, জোড়াকে-চিরা ইত্যাদি। বর্তমানে বালাগঞ্জ শীতলপাটী’র ঐতিহ্য হারিয়েছে কারণ এখন আর বালাগঞ্জে শীতলপাটী উৎপাদন হয় না, সামান্য যেটুকু উৎপাদন হয় তা যথেষ্ট মানসম্পন্ন নয়। বিলুপ্তপ্রায় এ শিল্পটির পূণঃপ্রতিষ্ঠার জন্য রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজন রয়েছে।

Shital Pati(Mat made of Canes):  The Upazila Balaganj has got a glorious history of producing and marketing natural mats SHITAL PATI. It is equally famous both in home and abroad. A Shital Pati specially made by the producers of ‘Gouripur’ of Balaganj was occasionally honored being placed in the palace of British Queen Victoria. One Joduram Das won GOLD MEDAL for Shital Pati in an Art Exhibition in Kolkata in 1906. The Best Craftsman Award in the national level was won by Babu Pobonjoy Das for his outstanding works in making Shital Pati in 1982. This natural mat won prizes in the exhibition of Handicrafts held in Rome in Italy where Bangladesh was represented by one Monindro Nath in 1991. The designs and sewing-technicalities of Shital Pati achieved world recognitions and it was once put in comparison to the world-famous MOSLIN (a very high quality finest fabrics). Depending on the style of sewing and size of the canes these are called with various names like Siki, Adhuli, Taka, Noyontara, Asmantara, Jurake-chira etc. Now a days ShitalPati has lost its traditional flavor in Balaganj because it is no more produced here to that extent though some people, very less in number, still make these mats regardless of the qualities. It has become a necessity of time that the state should come forward to re-establish this industry of our glory.

 

গায়েবী মসজিদঃGayebi mosjid( Spiritual Mosque)

সিলেট অঞ্চলে আরব দেশ ইয়েমেন থেকে আগত বিখ্যাত আউলিয়া হযরত শাহজালাল (রহ) এর আগমণের মাধ্যমে মুসলিম সংস্কৃতির আবির্ভাব ঘটে বলে ধারণা করা হয়, তবে সে সময় বালাগঞ্জে গায়েবী মসজিদ নামে একটি পুরনো মসজিদ আবিষ্কৃত হয়  যার সৃষ্টি সম্বন্ধে জানা যায়নি। হযরত শাহজালালের সঙ্গী সৈয়দ উমর সমরখন্দ–এর তিন ছেলের মধ্যে দুই জন-সৈয়দ মাহবুব খন্দকার ও সৈয়দ তাহির খন্দকার আরেক সঙ্গী সৈয়দ উসমান বোগদাদীসহ তিনজন মিলে আস্তানা নির্মাণের সময় বর্তমান বালাগঞ্জের উছমানপুর ইউনিয়নের পাঁচপাড়া গ্রামে টিলা কেটে মাটির নিচের এ মসজিদটি আবিষ্কার করেন। মসজিদটির উৎপত্তি সম্পর্কে জানা না থাকায় এটি গায়েবী মসজিদ নামে পরিচিতি লাভ করে। তাছাড়া সৈয়দ উসমান বোগদাদী’র নামানুসারে ঐ এলাকার (ইউনিয়ন) নাম হয় উছমানপুর।  

  Sylhet division is believed to have come under Muslim rule with presence of Hazrat Shah Jalal (Rh) , a prominent priest of ISLAM who came here from Yemen, a middle-east country. But a Mosque named GAYEBI MOSJID (Spiritual Mosque) was discovered which was found to be of a time even before. The mosque was discovred by two of three sons of one of the companies of Hzt. Shah Jalal (Rh) named Syed Ummar Samarkhand and another company Syed Usman Bogdady. The two sons Samarkhand, namely Syed Mahbub Khandokar and Syed Tahir Khandokar along with Syed Usman Bogdady uncovered the Mosque from underneath the surface of a hill (Tilla) there at Usmanpur (present Usmanpur UP of Balaganj) while the three priests were trying to build up their station for preaching. The foundation of the Mosque being unknown to them, it was named as GAYEBI MOSJID, a mosque of unknown origin, and the adjacent area was named USMANPUR after the name of the priest Usman Bogdady.